স্কুলের ইতিহাস
হাজী মো. নুরুল হক
(সাবেক মেম্বার, বৃহত্তর সোনাইমুড়ী ইউনিয়ন)
প্রতিষ্ঠাতা,
চাষীরহাট নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়।
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের সমুদ্র উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার চাষীরহাট ইউনিয়নটি ছিল একটি পশ্চাৎপদ, সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত ইউনিয়ন। কিন্তু একজন মানুষের ছোঁয়ায় সেই ইউনিয়নটি এখন উন্নয়নের পথে বেগবান। এই উন্নয়নের রূপকার এ এলাকার কৃতিসন্তান হেবযুত তওহীদের মাননীয় এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি অনেক বাধা, প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জের মুখেও এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর উদ্যোগে এই ইউনিয়নে শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্প, বাণিজ্য, কৃষিসহ প্রায় ৫০টির বেশি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার আলো জ্বালানোর জন্য বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং ধর্মীয়-নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি সমন্বিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয় যার নাম- চাষীরহাট নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়।
বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং প্রতিযোগিতামূলক। আজ একদিকে যেমন প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হচ্ছে অন্যদিকে জনসংখ্যা বেড়ে চলেছে জ্যামিতিক হারে। বাড়তি এই জনসংখ্যার বহুমুখী চাহিদা পূরণ করতে হলে উৎপাদন খাতে নানা প্রযুক্তির ব্যবহার, নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করার প্রয়োজন পড়ছে। ফলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিকভাবে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেও প্রয়োজন এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা যা একই সাথে তাদের আত্মিক উন্নয়ন ঘটাবে ও দেশপ্রেমিক করবে। এই দুইয়ের সমন্বয়ে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করা প্রয়োজন যা একদিকে তাদের নৈতিক চরিত্রে বলিয়ান করবে, মানবতাবোধ জাগ্রত করবে, সমস্ত রকম ভেদাভেদ, বৈষম্য দূর করে সাম্য ও ঐক্যের চেতনা সৃষ্টি করবে। অপরদিকে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার জন্য, জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায়ও তারা শিক্ষিত হবে। এ দুই দিকের সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে চাষীরহাট নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়। ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়াটাই জীবনের সার্থকতা নয়, বড় বিষয় হচ্ছে সেই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারের মধ্যে মায়া-মমতা, ন্যায়পরায়ণতা, নৈতিকতা, সততা ইত্যাদি মানবিক গুণাবলি রয়েছে কিনা। একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষার গুণে মানুষ হিসাবে বড় হয়ে উঠল, নাকি কেবল পুঁথিগত ও বস্তুগত বিদ্যা অর্জন করে স্বার্থপর যন্ত্রমানবে পরিণত হল কিনা সেটাই আসল কথা।





